Dhaka ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় হাওরাঞ্চলে অভিনব কৌশলে জলমহালের সরকারী রাজস্ব ফাঁকি

প্রকাশের সময় 24/08/2025

নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায় সরকারী বিভিন্ন জলমহালের কয়েক কোটি টাকা খাজনা ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। এ সকল জলমহালের মধ্যে কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে এবং কিছু টেন্ডারের মাধ্যমে লীজ গ্রহণ করে চলতি ১৪৩২ বাংলা সনের খাজনা এখনো পরিশোধ করেনি এসব ব্যক্তি।

সরকারী কর্তৃপক্ষ খাজনা পরিশোধের জন্য বিধি মোতাবেক কয়েক দফা তাগাদাপত্র প্রদানের পরও ইজারা গ্রহীতাগণ খাজনা পরিশোধ না করায় প্রশাসন ঐ সকল জলমহালের ইজারা বাতিল ও বায়নার টাকা বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলে জানা যায়। আর ইজারা গ্রহীতাগণের কৌশলটিও এখানেই।

ইতিমধ্যে বাংলা সনের ৪ মাস অতিবাহিত হয়ে ৫ম মাস তথা ভাদ্র মাস চলমান। এই সময়ে সকল জলমহালই কারো না কারো দখলে রয়েছে। তারা জলমহাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অর্থও ব্যয় করেছেন। মৎস্য আহরণ শুরু হবে অগ্রহায়ন মাস নাগাদ। স্বাভাবিকভাবে এ সময়ে লীজ বাতিল হলে ইজারা গ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টোটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে সরকার নিজেই। 

এই পর্যায়ে কোন ইজারা বাতিল হলে কর্তৃপক্ষকে রাজস্ব আদায়ের জন্য খাসকালেকশনের ইজারা প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে দায়িত্ব চলে যাবে উপজেলা প্রশাসনের নিকট। আর অসাধু চক্রটি এরই অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী জানান, ইজারা বাতিল হলে বাজেয়াপ্ত হবে ২৫% টাকা। বাকী ৭৫% টাকার মধ্যে ৩০% থেকে ৪০% টাকা খরচ করেই খাশ কালেকশনে নেয়া যাবে। দখলতো আছেই। বেঁচে যাবে অন্তত ৩৫% থেকে ৪০% টাকা। একটি হিসেবে দেখা যায় যে, তেমনটি হলে চলতি ১৪৩২ বাংলা সনে শুধু খালিয়াজুরী উপজেলাতেই সরকারের রাজস্ব কমবে কয়েক কোটি টাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জমি দখলের অভিযোগ সাবেক কমিশনার বাশারের বিরুদ্ধে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নেত্রকোনায় হাওরাঞ্চলে অভিনব কৌশলে জলমহালের সরকারী রাজস্ব ফাঁকি

Update Time : ০৬:১১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

প্রকাশের সময় 24/08/2025

নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায় সরকারী বিভিন্ন জলমহালের কয়েক কোটি টাকা খাজনা ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। এ সকল জলমহালের মধ্যে কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে এবং কিছু টেন্ডারের মাধ্যমে লীজ গ্রহণ করে চলতি ১৪৩২ বাংলা সনের খাজনা এখনো পরিশোধ করেনি এসব ব্যক্তি।

সরকারী কর্তৃপক্ষ খাজনা পরিশোধের জন্য বিধি মোতাবেক কয়েক দফা তাগাদাপত্র প্রদানের পরও ইজারা গ্রহীতাগণ খাজনা পরিশোধ না করায় প্রশাসন ঐ সকল জলমহালের ইজারা বাতিল ও বায়নার টাকা বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলে জানা যায়। আর ইজারা গ্রহীতাগণের কৌশলটিও এখানেই।

ইতিমধ্যে বাংলা সনের ৪ মাস অতিবাহিত হয়ে ৫ম মাস তথা ভাদ্র মাস চলমান। এই সময়ে সকল জলমহালই কারো না কারো দখলে রয়েছে। তারা জলমহাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অর্থও ব্যয় করেছেন। মৎস্য আহরণ শুরু হবে অগ্রহায়ন মাস নাগাদ। স্বাভাবিকভাবে এ সময়ে লীজ বাতিল হলে ইজারা গ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টোটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে সরকার নিজেই। 

এই পর্যায়ে কোন ইজারা বাতিল হলে কর্তৃপক্ষকে রাজস্ব আদায়ের জন্য খাসকালেকশনের ইজারা প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে দায়িত্ব চলে যাবে উপজেলা প্রশাসনের নিকট। আর অসাধু চক্রটি এরই অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী জানান, ইজারা বাতিল হলে বাজেয়াপ্ত হবে ২৫% টাকা। বাকী ৭৫% টাকার মধ্যে ৩০% থেকে ৪০% টাকা খরচ করেই খাশ কালেকশনে নেয়া যাবে। দখলতো আছেই। বেঁচে যাবে অন্তত ৩৫% থেকে ৪০% টাকা। একটি হিসেবে দেখা যায় যে, তেমনটি হলে চলতি ১৪৩২ বাংলা সনে শুধু খালিয়াজুরী উপজেলাতেই সরকারের রাজস্ব কমবে কয়েক কোটি টাকা।