Dhaka ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শাটডাউন দুর্ভোগে সাড়ে ছয় লক্ষাধিক গ্রাহক

প্রকাশের সময় 17/10/2024

 

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গ্রাহক সেবা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে। এতে জেলার সাড়ে ছয় লক্ষাধিক গ্রাহক সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এ সংবাদ লিখা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে নয় ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ৬ লাখ ৫৫ হাজার গ্রাহককে।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস সূত্রে জানা গেছে, বংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একীভূতকরণ, চুক্তি ভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণসহ নানা দাবিতে সম্প্রতি শুরু হওয়া চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবারের এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নেত্রকোনার ১০ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ৫৫ হাজার। কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় এসব গ্রাহক ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেকেই দুর্ভোগে পড়েন। দুপুরে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিদ্যুৎ না থাকায় এক্সরে করতে পারেননি উপজেলার সান্দিকোনা এলাকার মমিন মিয়া। মমিন মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মহা বিপদে পড়লাম। পা ভেঙ্গে এখন চিকিৎসাও নিতে পারছি না।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাঘরুয়া গ্রামের কৃষক এমরান শাহ ফকির বলেন, সারাদিন কারেন্ট না থাকায় খুব বিপদের মধ্যে আছি। মটরে পানি উঠছে না। বাড়ির কেউ গোসল করতে পারছে না। খাবার পানির জন্যও অসুবিধের মধ্যে আছি। এই যদি হয় দেশের অবস্থা আমাদের চলবে কি করে।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুত সমিতির মহা ব্যবস্থাপক (জি এম) প্রকৌশলী মোঃ মাসুম আহমেদ বলেন, আমি অফিস প্রধান হিসেবে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে শাটডাউন তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছি। গ্রাহকদের ভোগান্তি কোন ভাবেই কাম্য নয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বনানী বিশ^াসের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি দ্রæত সূরাহা করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষে আমি, পুলিশ সুপার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মিলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসেছি। এ রিপোর্ট খেলা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট) তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, আন্দোলনকারীরা দ্রæতই তাদের শাটডাউন কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জমি দখলের অভিযোগ সাবেক কমিশনার বাশারের বিরুদ্ধে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নেত্রকোনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শাটডাউন দুর্ভোগে সাড়ে ছয় লক্ষাধিক গ্রাহক

Update Time : ১০:০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪

প্রকাশের সময় 17/10/2024

 

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গ্রাহক সেবা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে। এতে জেলার সাড়ে ছয় লক্ষাধিক গ্রাহক সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এ সংবাদ লিখা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে নয় ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ৬ লাখ ৫৫ হাজার গ্রাহককে।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস সূত্রে জানা গেছে, বংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একীভূতকরণ, চুক্তি ভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণসহ নানা দাবিতে সম্প্রতি শুরু হওয়া চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবারের এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নেত্রকোনার ১০ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ৫৫ হাজার। কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় এসব গ্রাহক ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেকেই দুর্ভোগে পড়েন। দুপুরে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিদ্যুৎ না থাকায় এক্সরে করতে পারেননি উপজেলার সান্দিকোনা এলাকার মমিন মিয়া। মমিন মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মহা বিপদে পড়লাম। পা ভেঙ্গে এখন চিকিৎসাও নিতে পারছি না।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাঘরুয়া গ্রামের কৃষক এমরান শাহ ফকির বলেন, সারাদিন কারেন্ট না থাকায় খুব বিপদের মধ্যে আছি। মটরে পানি উঠছে না। বাড়ির কেউ গোসল করতে পারছে না। খাবার পানির জন্যও অসুবিধের মধ্যে আছি। এই যদি হয় দেশের অবস্থা আমাদের চলবে কি করে।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুত সমিতির মহা ব্যবস্থাপক (জি এম) প্রকৌশলী মোঃ মাসুম আহমেদ বলেন, আমি অফিস প্রধান হিসেবে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে শাটডাউন তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছি। গ্রাহকদের ভোগান্তি কোন ভাবেই কাম্য নয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বনানী বিশ^াসের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি দ্রæত সূরাহা করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষে আমি, পুলিশ সুপার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মিলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসেছি। এ রিপোর্ট খেলা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট) তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, আন্দোলনকারীরা দ্রæতই তাদের শাটডাউন কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিবে।