নেত্রকোণা শহরের রাজু'র বাজার এলাকার বাহির চাপড়া পাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি জমি দখলকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির প্রকৃত ওয়ারিশ ও বর্তমান ক্রেতাদের অভিযোগ, সাবেক কমিশনার আবুল বাশার ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
ভুক্তভোগী সাইকুল বলেন, “আমাদের নানার প্রায় সাড়ে দশ কাটা জমি ছোটবেলা থেকেই আমাদের দখলে ছিল। কিন্তু আমীর বাশার ও তার ভাইয়েরা নানা প্রলোভন দেখিয়ে জমিটি নিজেরা দখল করার চেষ্টা করে ছিলো। তারা বারবার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত দেয়নি কোনো টাকা পয়সা”
সাইকুল আরও জানান, পরবর্তীতে তিনি ও তার মামা বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে জমিটি বিক্রি করেন। তবে বিক্রির পর থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের আগে রাতের আঁধারে অভিযুক্তরা জমিতে চারাগাছ রোপণ করে এবং ধানের চারা লাগিয়ে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে জমিতে প্রবেশ করে গাছ লাগিয়ে দখলের চেষ্টা চালায়। পরদিন আবার জালের বেড়া দিয়ে জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
জমি ক্রেতাদের একজন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ফকির জানান, “আমরা বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি। সিএস, আরএস, বিআরএসসহ সব রেকর্ড যাচাই করেছি। নামজারি, খাজনা খারিজ এবং হোল্ডিং নম্বরও পেয়েছি। সম্প্রতি আবুল বাশারের লোকেরা জমি দখলের চেষ্টা করলে আমরা বাধা দিয়েছি। এখন জমি সম্পূর্ণ আমাদের দখলে রয়েছে এবং সেখানে আমাদের সাইনবোর্ড টানানো আছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি দখলের ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক কমিশনার আমীর বাশার, মো. ইমরান বাশার, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. মাসুদ। তাদের সবার বাড়ি নেত্রকোণা পৌরসভার বাহির চাপড়া এলাকায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সাবেক কমিশনার বাশার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করে আসছে। সে পূর্বে আওয়ামীলীগের পরিচয় এবং টানা তিনবার পৌরসভার প্যানেল মেয়র হওয়ায় তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের মধ্যদিয়ে এসব কাজ করতেন।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, তারা বৈধ মালিকদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন এবং সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তারপরও একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সবার আগে আমরা আছি আপনার সাথে