নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নে মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সচেতনতামূলক বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকালে সান্দিকোনা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত সভায় হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত সবাই হাত উঁচিয়ে মাদক থেকে দূরে থাকার শপথ গ্রহণ করেন। শপথ বাক্য পাঠ করান অনুষ্ঠানের সভাপতি নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, "মাদক কারবারিদের শেষবারের মতো হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। আজকের পর যার কাছেই মাদক পাওয়া যাবে, সে যে-ই হোক, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। দলীয় কোনো নেতাকর্মী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি—উভয় ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি সবাইকে মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া বলেন, মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা পেলে মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিয়ের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল হক বলেন, সান্দিকোনা মাদকের একটি 'রেড জোন' হিসেবে পরিচিত। ইতোমধ্যে একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় মাদকাসক্ত সন্তানের বাবা-মা নিজেরাই তাদের সন্তানকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবুল অভিযোগ করেন, অতীতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে মাদক কারবারিদের তালিকা ও তথ্য দিয়েও কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বক্তারাও সান্দিকোনায় মাদকের বিস্তারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সভায় জেলা পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, "আপনারা আন্তরিক হলে সান্দিকোনায় মাদক কারবার চলতে পারবে না। কোনো পুলিশ সদস্য মাদক কারবার বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে আমাকে সরাসরি জানাবেন। তার বিরুদ্ধেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।"
পবিত্র আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, কারবালার শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকা। সেই চেতনায় সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, "আমরা কি মাদক সেবন করব?" জবাবে উপস্থিত সবাই সমস্বরে বলেন, "করব না।" এরপর "মাদকের সহযোগিতা করব?"—এ প্রশ্নেরও তারা "করব না" বলে উত্তর দেন। সর্বশেষ মাদকের বিরুদ্ধে সব ধরনের পদক্ষেপে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন উপস্থিত জনতা।
সভা পরিচালনা করেন বিএনপি নেতা ইয়াকুব আলী ভূইয়া জুয়েল।
সবার আগে আমরা আছি আপনার সাথে