Dhaka ০১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যতিক্রমী সম্মানে বিদায় নিলেন কেন্দুয়ার উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সরকার

প্রকাশের সময় 01/08/2026

দীর্ঘ সাড়ে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করে পদোন্নতিপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সরকারকে ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা জানিয়েছে কেন্দুয়াবাসী। কর্মদক্ষতা, সততা ও মানবিক আচরণের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও ঠিকাদারদের অংশগ্রহণে একাধিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এর আগে কোনো উপজেলা প্রকৌশলীকে এমন সম্মানজনক বিদায় দেওয়া হয়নি।
আল আমিন সরকার ২০১১ সালের এপ্রিলে কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন এবং টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে অন্য দুটি কর্মস্থলে দায়িত্ব শেষে ২০২৪ সালে এপ্রিল মাসে পুনরায় কেন্দুয়ায় ফিরে আসেন। দুই দফায় তিনি উপজেলার দায়িত্বে ছিলেন প্রায় সাড়ে ১০ বছর। সম্প্রতি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ময়মনসিংহে পদায়ন হওয়ায় বৃহস্পতিবার ছিল কেন্দুয়ায় তার শেষ কর্মদিবস।
দীর্ঘ কর্মকালজুড়ে উপজেলার সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় তিনি সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সহকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। ফলে তার পদোন্নতিতে সবাই আনন্দিত হলেও বিদায়ে উপজেলায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদায় উপলক্ষে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব, মিডিয়া ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব, উপজেলা ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশন, এলজিইডি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী, নবাগত উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন আহমেদ খোকন, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম, মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মাসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ঠিকাদার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, আল আমিন সরকার একজন দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা। তার নীতি-নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা আমাকে সবসময় মুগ্ধ করেছে। অসুস্থ শরীর নিয়েও তার প্রতি ভালোবাসার টানেই অনুষ্ঠানে এসেছি। তার আগামী কর্মজীবন আরও সফল ও সমৃদ্ধ হোক।
কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ ঠিকাদারি জীবনে আল আমিন সরকারের মতো নির্লোভ ও নিরহংকার প্রকৌশলী খুব কম দেখেছি। তিনি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেননি। তবে উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করতে ছিলেন আপসহীন।
বিদায়ী বক্তব্যে আল আমিন সরকার বলেন, আমার বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় হলেও কর্মজীবনের ২৭ বছর কেটেছে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণায়। এর মধ্যে সাড়ে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছি কেন্দুয়ায়। এখানকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তা আজীবন স্মরণে রাখব। কেন্দুয়াবাসীর এই আন্তরিকতা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

সৌরবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা

ব্যতিক্রমী সম্মানে বিদায় নিলেন কেন্দুয়ার উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সরকার

Update Time : ০৪:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

প্রকাশের সময় 01/08/2026

দীর্ঘ সাড়ে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করে পদোন্নতিপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সরকারকে ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা জানিয়েছে কেন্দুয়াবাসী। কর্মদক্ষতা, সততা ও মানবিক আচরণের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও ঠিকাদারদের অংশগ্রহণে একাধিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এর আগে কোনো উপজেলা প্রকৌশলীকে এমন সম্মানজনক বিদায় দেওয়া হয়নি।
আল আমিন সরকার ২০১১ সালের এপ্রিলে কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন এবং টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে অন্য দুটি কর্মস্থলে দায়িত্ব শেষে ২০২৪ সালে এপ্রিল মাসে পুনরায় কেন্দুয়ায় ফিরে আসেন। দুই দফায় তিনি উপজেলার দায়িত্বে ছিলেন প্রায় সাড়ে ১০ বছর। সম্প্রতি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ময়মনসিংহে পদায়ন হওয়ায় বৃহস্পতিবার ছিল কেন্দুয়ায় তার শেষ কর্মদিবস।
দীর্ঘ কর্মকালজুড়ে উপজেলার সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় তিনি সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সহকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। ফলে তার পদোন্নতিতে সবাই আনন্দিত হলেও বিদায়ে উপজেলায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদায় উপলক্ষে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব, মিডিয়া ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব, উপজেলা ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশন, এলজিইডি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী, নবাগত উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন আহমেদ খোকন, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম, মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মাসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ঠিকাদার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, আল আমিন সরকার একজন দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা। তার নীতি-নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা আমাকে সবসময় মুগ্ধ করেছে। অসুস্থ শরীর নিয়েও তার প্রতি ভালোবাসার টানেই অনুষ্ঠানে এসেছি। তার আগামী কর্মজীবন আরও সফল ও সমৃদ্ধ হোক।
কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ ঠিকাদারি জীবনে আল আমিন সরকারের মতো নির্লোভ ও নিরহংকার প্রকৌশলী খুব কম দেখেছি। তিনি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেননি। তবে উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করতে ছিলেন আপসহীন।
বিদায়ী বক্তব্যে আল আমিন সরকার বলেন, আমার বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় হলেও কর্মজীবনের ২৭ বছর কেটেছে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণায়। এর মধ্যে সাড়ে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছি কেন্দুয়ায়। এখানকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তা আজীবন স্মরণে রাখব। কেন্দুয়াবাসীর এই আন্তরিকতা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি।