Dhaka ০৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টর্চার সেলে অমানুষিক নির্যাতন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৬:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪
  • ৩১০ Time View

প্রকাশের সময় 28/03/2024

ময়মনসিংহ জেলার  গৌরীপুর উপজেলার ৯নং ভাংনামারী ইউনিয়ন পরিষদের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সাবিকুর রহমানের (শফিক মাস্টার) টর্চার সেল থেকে মঙ্গলবার (২৬মার্চ) রাত ৯টায় আরও এক যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. সাবিকুর রহমানের ভাই শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে । এ ঘটনায় বুধবার (২৭মার্চ) গৌরীপুর থানায় মামলা হয়েছে।
‘পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার জন্য’ ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ঘেঁষে বন-জঙ্গলে ঘেরা উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের সুতিরপাড়া মুন্সিবাড়ি এলাকায় চার ভাইয়ের নেতৃত্বে গড়ে তোলে এই টর্চার সেল। এই টর্চার সেলে এবার নির্যাতনের শিকার হন খুলনার কয়রা উপজেলার হাবিবুর রহমানের পুত্র মাকসিদুল গাজী।
মাকসিদুল গাজী বলেন, অনার্স-মাস্টার্স করে বেকার হয়ে ঘুরছিলাম। একটি জাতীয় দৈনিক ও চাকরির খবর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ওয়ার্ল্ডভিশনে সেকশন অফিসার পদে চাকরির আবেদন করেন তিনি। এ চাকরির জন্য সোমবার ইন্টারভিউ দিতে আসেন। তাকে নান্দাইল এলাকা থেকে প্রতারকচক্রটি নিয়ে আসে এ টর্চার সেলে। সেখানে অন্ধকার কক্ষে আটক রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবার থেকে টাকা না দেওয়ায় চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। টাকা না দিলে শরীরের কিডনি খুলে বিক্রি করে দেবে বলেও ভয় দেখায়। দফায় দফায় ওরা অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে আমাকে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিল। গ্রেফতারকৃত শাহজাহান মোটরসাইকেল ড্রাইভিং করছিলেন। আর পেছনে আরেকজন ডেগার (ছুরি) ধরে রাখে। নাপ্তের আলগীর আজিজের মোড় এলাকায় লোকজন দেখে আমি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে লাফিয়ে পড়ি। এ সময় জনতা মোটরসাইকেল চালককে আটক ও আমাকে রক্ষা করেন। এ সময় অন্যজন পালিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, টর্চারসেলের ভেতরে আরও ৪ জন ছিলেন বলে ওরা আমাকে জানিয়েছে। এছাড়াও এ টর্চার সেলের ভিতরে শত শত চাকরি প্রার্থীর আবেদনপত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরীপুর থানার এসআই বাহারুল ইসলাম জানান, মাকসিদুল গাজীকে নান্দাইলের খুররম খান কলেজের সামনে থেকে প্রতারকচক্র রিসিভ করে। এরপর গৌরীপুরের ভাংনামারী ইউনিয়নের সুতিরপাড় এলাকার এ টর্চার সেলে নিয়ে আসে। মামলায় শাহজাহান, সবুজ মিয়া ও শফিকুল ইসলামসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার ওসি সুমন চন্দ্র রায় জানায়, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শাহজাহানকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের অপকর্ম জানতে তদন্ত ও এই চক্রের বিস্তারিত জানাতে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্র জানায়, এ জঙ্গলবাড়িতে একটি মাত্র বাতি (বাল্ব) রয়েছে। নির্যাতনের জন্য প্রত্যেকটি রুম একেকটি টর্চারসেল। তিন কক্ষের সমন্বয়ে ভিতরে এক গোপন কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে অপহৃত ব্যক্তিদের আটকিয়ে রাখলেও বাহির থেকে দেখা যায় না। বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের আবেদনপত্র, বায়োডাটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রুমে রুমে। প্রত্যেক রুমে রয়েছে নির্যাতনে ব্যবহৃত বস্তা, লাঠিসহ নানা সরঞ্জাম।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মো. সাবিকুর রহমান অটোরিকশা প্রতীক নিয়ে ভাংনামারী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ১০টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৮৫৮ ভোটের মধ্যে এই প্রার্থী মাত্র ১০৯ ভোট পান। কাঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় জামানতের অর্থও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মো. নেজামুল হক ৫ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

নেত্রকোনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টর্চার সেলে অমানুষিক নির্যাতন

Update Time : ১০:১৬:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

প্রকাশের সময় 28/03/2024

ময়মনসিংহ জেলার  গৌরীপুর উপজেলার ৯নং ভাংনামারী ইউনিয়ন পরিষদের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সাবিকুর রহমানের (শফিক মাস্টার) টর্চার সেল থেকে মঙ্গলবার (২৬মার্চ) রাত ৯টায় আরও এক যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. সাবিকুর রহমানের ভাই শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে । এ ঘটনায় বুধবার (২৭মার্চ) গৌরীপুর থানায় মামলা হয়েছে।
‘পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার জন্য’ ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ঘেঁষে বন-জঙ্গলে ঘেরা উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের সুতিরপাড়া মুন্সিবাড়ি এলাকায় চার ভাইয়ের নেতৃত্বে গড়ে তোলে এই টর্চার সেল। এই টর্চার সেলে এবার নির্যাতনের শিকার হন খুলনার কয়রা উপজেলার হাবিবুর রহমানের পুত্র মাকসিদুল গাজী।
মাকসিদুল গাজী বলেন, অনার্স-মাস্টার্স করে বেকার হয়ে ঘুরছিলাম। একটি জাতীয় দৈনিক ও চাকরির খবর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ওয়ার্ল্ডভিশনে সেকশন অফিসার পদে চাকরির আবেদন করেন তিনি। এ চাকরির জন্য সোমবার ইন্টারভিউ দিতে আসেন। তাকে নান্দাইল এলাকা থেকে প্রতারকচক্রটি নিয়ে আসে এ টর্চার সেলে। সেখানে অন্ধকার কক্ষে আটক রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবার থেকে টাকা না দেওয়ায় চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। টাকা না দিলে শরীরের কিডনি খুলে বিক্রি করে দেবে বলেও ভয় দেখায়। দফায় দফায় ওরা অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে আমাকে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিল। গ্রেফতারকৃত শাহজাহান মোটরসাইকেল ড্রাইভিং করছিলেন। আর পেছনে আরেকজন ডেগার (ছুরি) ধরে রাখে। নাপ্তের আলগীর আজিজের মোড় এলাকায় লোকজন দেখে আমি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে লাফিয়ে পড়ি। এ সময় জনতা মোটরসাইকেল চালককে আটক ও আমাকে রক্ষা করেন। এ সময় অন্যজন পালিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, টর্চারসেলের ভেতরে আরও ৪ জন ছিলেন বলে ওরা আমাকে জানিয়েছে। এছাড়াও এ টর্চার সেলের ভিতরে শত শত চাকরি প্রার্থীর আবেদনপত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরীপুর থানার এসআই বাহারুল ইসলাম জানান, মাকসিদুল গাজীকে নান্দাইলের খুররম খান কলেজের সামনে থেকে প্রতারকচক্র রিসিভ করে। এরপর গৌরীপুরের ভাংনামারী ইউনিয়নের সুতিরপাড় এলাকার এ টর্চার সেলে নিয়ে আসে। মামলায় শাহজাহান, সবুজ মিয়া ও শফিকুল ইসলামসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার ওসি সুমন চন্দ্র রায় জানায়, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শাহজাহানকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের অপকর্ম জানতে তদন্ত ও এই চক্রের বিস্তারিত জানাতে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্র জানায়, এ জঙ্গলবাড়িতে একটি মাত্র বাতি (বাল্ব) রয়েছে। নির্যাতনের জন্য প্রত্যেকটি রুম একেকটি টর্চারসেল। তিন কক্ষের সমন্বয়ে ভিতরে এক গোপন কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে অপহৃত ব্যক্তিদের আটকিয়ে রাখলেও বাহির থেকে দেখা যায় না। বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের আবেদনপত্র, বায়োডাটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রুমে রুমে। প্রত্যেক রুমে রয়েছে নির্যাতনে ব্যবহৃত বস্তা, লাঠিসহ নানা সরঞ্জাম।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মো. সাবিকুর রহমান অটোরিকশা প্রতীক নিয়ে ভাংনামারী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ১০টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৮৫৮ ভোটের মধ্যে এই প্রার্থী মাত্র ১০৯ ভোট পান। কাঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় জামানতের অর্থও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মো. নেজামুল হক ৫ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।