Dhaka ০১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে ডিএনএ প্রতিবেদনে জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক পিতা মাদ্রাসা শিক্ষক সাগর

প্রকাশের সময় 24/08/2026

নেত্রকোনার মদনের একটি মহিলা কওমি মাদ্রসার ১১বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণে পর জন্ম নেওয়া নবজাতকের সাথে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন  ৯৯.৯৯৯ শতাংশ হুবহু মিলেছে। 

সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রতিবেদন থানা পুলিশের হাতে এসেছে। এতে নবজাতকের জৈবিক পিতা হিসেবে ওই শিক্ষক প্রমাণিত হয়েছে। 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নূরুল কবির এ বিষয়টি

নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড় বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিলে শিশুটি প্রথমে ঘটনা গোপন রাখলেও পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে তার পরিবার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি দেশ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিলে র‌্যাব-১৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এরপর গত ১৭ মে আদালতের অনুমতিক্রমে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামি সাগরের ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের একটি সেফ হোমে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সেফ হোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি মোঃ নুরুল কবীর রুবেল জানান, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

সৌরবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা

মদনে ডিএনএ প্রতিবেদনে জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক পিতা মাদ্রাসা শিক্ষক সাগর

Update Time : ১১:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

প্রকাশের সময় 24/08/2026

নেত্রকোনার মদনের একটি মহিলা কওমি মাদ্রসার ১১বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণে পর জন্ম নেওয়া নবজাতকের সাথে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন  ৯৯.৯৯৯ শতাংশ হুবহু মিলেছে। 

সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রতিবেদন থানা পুলিশের হাতে এসেছে। এতে নবজাতকের জৈবিক পিতা হিসেবে ওই শিক্ষক প্রমাণিত হয়েছে। 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নূরুল কবির এ বিষয়টি

নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড় বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিলে শিশুটি প্রথমে ঘটনা গোপন রাখলেও পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে তার পরিবার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি দেশ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিলে র‌্যাব-১৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এরপর গত ১৭ মে আদালতের অনুমতিক্রমে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামি সাগরের ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের একটি সেফ হোমে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সেফ হোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি মোঃ নুরুল কবীর রুবেল জানান, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করবে।