Dhaka ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় পরিদর্শনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

প্রকাশের সময় 21/07/2026

টানা অতিবৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন স্থানে আধুনিক ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
গত রোববার (১৯ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বিদ্যালয় ভবনের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভবনের একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কাঁচা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন কাঁচা ও পাকা সড়কেও পানির তীব্র স্রোতে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিদর্শনকালে ডেপুটি স্পিকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আমরা স্থানীয়ভাবে আলোচনা করেছি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সেজন্য আপাতত স্থানীয় একজন ভদ্রলোকের বৈঠকখানায় অস্থায়ীভাবে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
তিনি জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেছেন। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের জন্য একটি স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে।
বর্তমান ভবন সংস্কারের পরিবর্তে নতুন স্থানে বিদ্যালয় স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান স্থানে বিদ্যালয়টি সংস্কার করা হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবারও পাহাড়ি ঢল বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি উদ্যোগে পর্যাপ্ত জায়গা নির্বাচন করে সম্পূর্ণ নতুন স্থানে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হবে। আমি নিজে শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। জনপ্রতিনিধিরা যদি সরাসরি মাঠে থেকে মানুষের সমস্যার কথা শোনেন, তাহলে রাষ্ট্রের নীতিমালা বাস্তবায়ন সহজ হয়। আমরা জনগণের দুর্ভোগে সবসময় পাশে আছি এবং থাকব।”
যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, এলজিইডির প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পরিদর্শন করছেন। জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার ক্ষতি কমাতে এ অঞ্চলে সাবমার্সিবল সড়ক নির্মাণের বিষয়টি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
পরিদর্শনকালে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল আজম, লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

Popular Post

পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় পরিদর্শনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় পরিদর্শনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

Update Time : ১০:২০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রকাশের সময় 21/07/2026

টানা অতিবৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন স্থানে আধুনিক ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
গত রোববার (১৯ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বিদ্যালয় ভবনের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভবনের একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কাঁচা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন কাঁচা ও পাকা সড়কেও পানির তীব্র স্রোতে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিদর্শনকালে ডেপুটি স্পিকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আমরা স্থানীয়ভাবে আলোচনা করেছি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সেজন্য আপাতত স্থানীয় একজন ভদ্রলোকের বৈঠকখানায় অস্থায়ীভাবে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
তিনি জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেছেন। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের জন্য একটি স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে।
বর্তমান ভবন সংস্কারের পরিবর্তে নতুন স্থানে বিদ্যালয় স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান স্থানে বিদ্যালয়টি সংস্কার করা হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবারও পাহাড়ি ঢল বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি উদ্যোগে পর্যাপ্ত জায়গা নির্বাচন করে সম্পূর্ণ নতুন স্থানে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হবে। আমি নিজে শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। জনপ্রতিনিধিরা যদি সরাসরি মাঠে থেকে মানুষের সমস্যার কথা শোনেন, তাহলে রাষ্ট্রের নীতিমালা বাস্তবায়ন সহজ হয়। আমরা জনগণের দুর্ভোগে সবসময় পাশে আছি এবং থাকব।”
যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, এলজিইডির প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পরিদর্শন করছেন। জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার ক্ষতি কমাতে এ অঞ্চলে সাবমার্সিবল সড়ক নির্মাণের বিষয়টি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
পরিদর্শনকালে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল আজম, লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।