
প্রকাশের সময় 21/06/2026
নেত্রকোণার কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদের প্রত্যাহার এবং চিহ্নিত মাদক কারবারিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, চেংজানা গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি আজিজুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও পরে চিকিৎসার অজুহাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ওসিসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. মাহবুব আলম মহসিন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এয়াকুব আলী ভূঞা জুয়েলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকালে চেংজানা গ্রামের কাজল নামে এক যুবক এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করলে আজিজুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে। এরই প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আজিজুল ইসলাম, তার স্ত্রী সালেহা খাতুন এবং ছেলে আসাদুলকে আটক করে গণধোলাই দেন। পরে রাত ৮টার দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের কেন্দুয়া থানার এসআই ফজলু মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ আহতদের কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এদিকে তার ছেলে আসাদুল এক্স-রে করানোর কথা বলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় এবং সালেহা খাতুন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।
তবে জনতার হাতে আটক হওয়ার পরও অভিযুক্তরা পুলিশি হেফাজতে না থাকায় এলাকায় ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসার অজুহাতে ওসি মেহেদী মাকসুদে নেতৃত্বে মাদক কারবারিদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলায় আজিজুল ইসলাম আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
নেত্রকোণার পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মজিবুর রহমান কিবরিয়া 
















