Dhaka ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিচ্ছা পালার পুনর্জাগরণে কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের ব্যতিক্রমী আয়োজন

প্রকাশের সময় 25/07/2026

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় লোকসাহিত্যের অন্যতম ধারক ও বাহক গ্রামীণ কিচ্ছা পালার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পুনর্জাগরণ ও বিকাশের লক্ষ্যে কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের উদ্যোগে ‘গ্রামীণ কিচ্ছা পালা ও এই সংস্কৃতির বিকাশে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও কিচ্ছা পালা পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও কিচ্ছা পালা পরিবেশনা চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।
কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইতিহাস-ঐতিহ্য, অনুসন্ধান ও গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি এবং সাবেক পৌর মেয়র দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন সফিক। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দুয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও প্রগতি পাঠক চক্রের সভাপতি অধ্যাপক রনেন সরকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাই সেলিম।
উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার আহমেদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী চৌধুরী কাজল, উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, সাংবাদিক হারেছ উদ্দিন ফকির, সাংবাদিক সালাউদ্দিন সালামসহ আরও অনেকে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একসময় গ্রামগঞ্জে কিচ্ছা পালার আসর ছিল মানুষের অন্যতম বিনোদন ও শিক্ষার মাধ্যম। সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন এলাকায় কিচ্ছা পালার আয়োজন হতো। সব বয়সী মানুষ গভীর মনোযোগ দিয়ে এসব পালা শুনতেন এবং এর মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সামাজিক মূল্যবোধ ও জীবনবোধের নানা বিষয় ধারণ করতেন।
বক্তারা বলেন, কিচ্ছা পালা শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, এটি ছিল গ্রামীণ মানুষের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত বিনোদন ব্যবস্থার কারণে এই সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই কিচ্ছা পালার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নিয়মিত চর্চা ও নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ গ্রামীণ কিচ্ছা পালা পরিবেশনা। এতে কিচ্ছা পরিবেশন করেন জসিম বয়াতি, সবুজ বয়াতি ও আশিক বয়াতি। তাঁদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

Popular Post

আটপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কিচ্ছা পালার পুনর্জাগরণে কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের ব্যতিক্রমী আয়োজন

Update Time : ০১:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

প্রকাশের সময় 25/07/2026

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় লোকসাহিত্যের অন্যতম ধারক ও বাহক গ্রামীণ কিচ্ছা পালার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পুনর্জাগরণ ও বিকাশের লক্ষ্যে কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের উদ্যোগে ‘গ্রামীণ কিচ্ছা পালা ও এই সংস্কৃতির বিকাশে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও কিচ্ছা পালা পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও কিচ্ছা পালা পরিবেশনা চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।
কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইতিহাস-ঐতিহ্য, অনুসন্ধান ও গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি এবং সাবেক পৌর মেয়র দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন সফিক। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দুয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও প্রগতি পাঠক চক্রের সভাপতি অধ্যাপক রনেন সরকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাই সেলিম।
উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার আহমেদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী চৌধুরী কাজল, উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, সাংবাদিক হারেছ উদ্দিন ফকির, সাংবাদিক সালাউদ্দিন সালামসহ আরও অনেকে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একসময় গ্রামগঞ্জে কিচ্ছা পালার আসর ছিল মানুষের অন্যতম বিনোদন ও শিক্ষার মাধ্যম। সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন এলাকায় কিচ্ছা পালার আয়োজন হতো। সব বয়সী মানুষ গভীর মনোযোগ দিয়ে এসব পালা শুনতেন এবং এর মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সামাজিক মূল্যবোধ ও জীবনবোধের নানা বিষয় ধারণ করতেন।
বক্তারা বলেন, কিচ্ছা পালা শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, এটি ছিল গ্রামীণ মানুষের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত বিনোদন ব্যবস্থার কারণে এই সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই কিচ্ছা পালার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নিয়মিত চর্চা ও নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ গ্রামীণ কিচ্ছা পালা পরিবেশনা। এতে কিচ্ছা পরিবেশন করেন জসিম বয়াতি, সবুজ বয়াতি ও আশিক বয়াতি। তাঁদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন।