
প্রকাশের সময় 27/09/2026
নেত্রকোনায় জানুয়ারী থেকে আগষ্ট পর্যন্ত গত ৮ মাসে পানিতে ডুবে ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে জনসাধারণের মাঝে চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করলেও সচেতন মহলের ধারণা, এ সকল মৃত্যুরোধে সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে জেলায় পানিতে ডুবে মুত্যুর মিছিল ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
নেত্রকোনা জেলা মূলত পাহাড়, নদী, নালা, হাওর, বাওর, খাল বিল পরিবেষ্টিত জেলা। বাড়ির চারপাশে পানি থাকায় অসাবধানতাঃ বশত প্রতিনিয়ত ঘটছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তারপরও জনসাধারনের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা তৈরীতে নেই সরকারী বেসরকারাী কোন কার্যকর
উদ্যোগ।
নেত্রকোনা জেলায় গত ৮ মাসে পানিতে ডুবে মারা গেছে ৮২ জন। এরমধ্যে ৯৫ ভাগই শিশু। সরেজমিন খুঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, মৃত শিশুদের বেশির ভাগের বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার রোধ করতে হলে সবার আগে তৃণমূল পর্যায়ে জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হব। তারপর প্রত্যেক অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদেরকে সাঁতার শিখানো। সাধারণত দেশে ছয়/সাত বছরের পর থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে সাঁতার শেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পানিতে ডুবে যে সমস্ত শিশু মারা যায় তাদের বেশির ভাগ শিশুর বয়স এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী।
সচেতন মহলের দাবী, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার রোধ করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায়ে জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক
সচেতনতা তৈরি করতে সরকারি বেসরকারী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ।
নেত্রকোনা জেলার ১০ উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামের বাড়ির উঠান পেরুলেই চোখে পড়ে পুকুর, ডোবা, নদী, নালা, খাল, বিল ও হাওর। বেশির ভাগ শিশু পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার সময় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের পিতারা কৃষি কাজে আর মায়েরা রান্নাবান্না অথবা গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিল। মাঝে মধ্যে এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে শিশুদের সাতার শিখানোর জন্য নানা ধরনের প্রকল্পের কথা শুনা গেলেও বাস্তবে তাদের কোন কার্যক্রম জনসাধারণের মাঝে পরিলক্ষিত হয় না। কাগজে কলমে সাতার শিখানোর নামে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মাসে জেলায় পানিতে ডুবে মারা গেছে ৮২ জন। সবোর্চ্চ মৃত্যুর সংখ্যা থাকে বষার্কালে অর্থাৎ জুন মাসে। জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে কলমাকান্দা উপজেলায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাসে ০৩ জন, ফেব্রুয়ারী মাসে ০০ জন, মার্চ মাসে ০৪ জন, এপ্রিল মাসে ০৬ জন, মে মাসে ১৫ জন, জুন মাসে ২৭ জন, জুলাই মাসে ০৯ জন ও আগষ্ট মাসে ১৮ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে।
নেত্রকোনা জনউদ্যোগ এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, নেত্রকোনা জেলা মূলত নদী, নালা, খাল বিল ও হাওর পরিবেষ্টিত জেলা। বর্ষাকালে এ জেলার চারদিকে পানি থৈ থৈ করে।
গ্রামে শিশুদের দেখ ভালের জন্য আলাদা করে বাবা বা পরিবারের অন্য কোন সদস্য থাকেন। যে কারণে মাকেই সন্তানসহ সকল দায়িত্ব সামলাতে হয়। বাবারা সংসারের খোরাক যোগাতে বাড়ির বাহিরে কাজ করে আর মায়েরা তাদের ছোট শিশুকে ঘরে বা উঠানে বসিয়ে রেখে গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত থাকায় শিশুরা খেলাধুলা করতে গিয়ে সকলেরর অগোচরে বাড়ির পাশে পুকুর, ডোবা, নালা, খাল ও নদীর পানিতে পড়ে মারা যায়। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার রোধ করতে হলে গ্রামে গ্রামে বেশি বেশি সচেতনতামুলক কর্মকান্ড চালাতে হবে। গ্রামে গ্রামে
শিশু দিবা যত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাড়ির সামনে পুকুর বা ডোবা নালা থাকলে বাঁশের তৈরি খুঁটি বা নেট দিয়েও ঘেরাও করে রাখতে হবে। সরকারী বেসরকারি উদ্যোগে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে প্রত্যেকটা শিশু কিশোরকে সাতার শিখাতে হবে।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার রোধ কল্পে প্রতিটি উপজেলায় জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে জেলা পর্যায়ে মত বিনিময় সভা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী অফিসারদেরকে বলে দেয়া হয়েছে সভা ডেকে এ ব্যাপারে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য। শিশুদের সাতার শিখানোর জন্য পুকুর গুলোকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। এই মৃুত্যুর হাত থেকে শিশুদেরকে কিভাবে সুরক্ষা দেয়া যায় এটি নিয়ে কর্ম পরিকল্পনার কাজ চলছে।
এ কে এম আব্দুল্লাহ্ 













