Dhaka ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে টানা দুই বছর কেউ পাশ করেনি

প্রকাশের সময় 03/11/2026

নেত্রকোনা জেলা সদরে অবস্থিত নন-এমপিও ভুক্ত ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোক সাহিত্য গবেষণা একাডেমি থেকে টানা দুই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শুধু ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজই নয়, এবার নেত্রকোনা জেলার আরও পাঁচটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। অর্থাৎ, জেলার ছয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সব কটিই নন-এমপিওভুক্ত।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে তিনজন মানবিক বিভাগের এবং একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এর আগের বছর এ কলেজ থেকে দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েও অকৃতকার্য হন। ফলে টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি।
কলেজ সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৯ সালে সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের শাহ্পুর গ্রামে ‘ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় সুন্দর ভবন নির্মিত হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি ও ফলাফলের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সাফল্য পাচ্ছে না।
চলতি বছর কলেজটি থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি এ ব্যাপারে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইকবাল হাসান তপুর সাথে যোগাযোগ করে প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষক রয়েছেন, জানতে চাইলে কিছুটা রাগান্বিত হয়ে তিনি বলেন, ‘এটি নন-এমপিও কলেজ। এখানে কোনো নিয়মিত শিক্ষক নেই। যখন যাকে প্রয়োজন, ডেকে আনা হয়। তাই নিয়মিত কোনো শিক্ষক নেই। ফলাফল বিপর্যয়ের কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আপনাদেরকে কিছু বলতে চাই না, যা বলার শিক্ষা বোর্ডকে বলব।
জেলায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।
জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোপালপুর মডেল কলেজ থেকে একজন, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এবার নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯ শত ১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ হাজার ৮ শত ৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছেন, তা অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

নেত্রকোনায় ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে টানা দুই বছর কেউ পাশ করেনি

নেত্রকোনায় ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে টানা দুই বছর কেউ পাশ করেনি

Update Time : ০৩:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

প্রকাশের সময় 03/11/2026

নেত্রকোনা জেলা সদরে অবস্থিত নন-এমপিও ভুক্ত ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোক সাহিত্য গবেষণা একাডেমি থেকে টানা দুই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শুধু ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজই নয়, এবার নেত্রকোনা জেলার আরও পাঁচটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। অর্থাৎ, জেলার ছয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সব কটিই নন-এমপিওভুক্ত।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে তিনজন মানবিক বিভাগের এবং একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এর আগের বছর এ কলেজ থেকে দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েও অকৃতকার্য হন। ফলে টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি।
কলেজ সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৯ সালে সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের শাহ্পুর গ্রামে ‘ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় সুন্দর ভবন নির্মিত হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি ও ফলাফলের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সাফল্য পাচ্ছে না।
চলতি বছর কলেজটি থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি এ ব্যাপারে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইকবাল হাসান তপুর সাথে যোগাযোগ করে প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষক রয়েছেন, জানতে চাইলে কিছুটা রাগান্বিত হয়ে তিনি বলেন, ‘এটি নন-এমপিও কলেজ। এখানে কোনো নিয়মিত শিক্ষক নেই। যখন যাকে প্রয়োজন, ডেকে আনা হয়। তাই নিয়মিত কোনো শিক্ষক নেই। ফলাফল বিপর্যয়ের কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আপনাদেরকে কিছু বলতে চাই না, যা বলার শিক্ষা বোর্ডকে বলব।
জেলায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।
জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোপালপুর মডেল কলেজ থেকে একজন, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এবার নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯ শত ১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ হাজার ৮ শত ৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছেন, তা অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।