Dhaka ০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ আড়াল করতে ভূমিদস্যু বানিয়ে মানববন্ধন

প্রকাশের সময় 27/10/2026

নেত্রকোনার আটপাড়ায় কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ইবাদ হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আড়াল করতে তাকে ‘ভূমিদস্যু’ আখ্যা দিয়ে মানববন্ধন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চুন্নু খানের নেতৃত্বে  সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আটপাড়া উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  হয়।

মানববন্ধনে ইবাদ হোসেনের ছবি সংবলিত ব্যানারে তাকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে যে জায়গা নিয়ে বিরোধ, সেই জায়গার মালিকানা দাবিদার শাহীন সুলতানা সুমি মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন না।

মানববন্ধনে চুন্নু খান অভিযোগ করেন, সাংবাদিক ইবাদ হোসেন জোরপূর্বক তার চাচাতো বোন শাহীন সুলতানা সুমির জায়গা দখল করে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা করে জায়গাটিতে নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হত্যার হুমকির অডিও রেকর্ডটি ইবাদ হোসেন তাকে প্ররোচিত করে তৈরি করেছেন বলেও দাবি করেন চুন্নু খান। তার অভিযোগ, ইবাদ হোসেন তার ছোট ভাইয়ের সামরিক চাকরির ক্ষমতা দেখিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

তবে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জায়গাটিতে এলজিইডির ইটের সলিং করা একটি রাস্তা রয়েছে।  সেখানে সাংবাদিক ইবাদ হোসেনের ব্যক্তিগত কোনো দখলও দেখা যায়নি।

এ ছাড়া আদালতে করা অভিযোগের বাদীও ইবাদ হোসেন নন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মজিবুর রহমান জায়গাটি নিয়ে আদালতে অভিযোগ করেন। পরে আদালত সেখানে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

সাংবাদিক ইবাদ হোসেন বলেন, ‘রাস্তা নিয়ে আমি কোথাও অভিযোগ করিনি। অন্য ১০টি পরিবারের মতো আমিও ওই রাস্তার একজন পথচারী। চুন্নু খান আমাকে মোবাইল ফোনে ও সামনাসামনি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। যেকোনো মূল্যে আমার ছোট ভাইয়ের চাকরি খেয়ে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আমি আটপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে মিথ্যা দাবি করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় ও মানহানি করতেই এ মানববন্ধন করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটপাড়া পোস্ট অফিস রোডসংলগ্ন ওই এলাকায় ৮-১০টি পরিবার প্রায় ১৫ বছর ধরে জায়গাটি চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। পরে ২০১৯ সালে স্থানীয় পরিবারগুলো রাস্তার জন্য এক শতাংশ জমি ক্রয় করে। প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডি সেখানে ইটের সলিং নির্মাণ করে।

এরপর শাহীন সুলতানা সুমি নিজের জায়গাসহ রাস্তাটি নিজের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হলে আদালত ওই জায়গায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এদিকে, সাংবাদিক ইবাদ হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

Popular Post

সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ আড়াল করতে ভূমিদস্যু বানিয়ে মানববন্ধন

সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ আড়াল করতে ভূমিদস্যু বানিয়ে মানববন্ধন

Update Time : ০৮:২৯:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রকাশের সময় 27/10/2026

নেত্রকোনার আটপাড়ায় কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ইবাদ হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আড়াল করতে তাকে ‘ভূমিদস্যু’ আখ্যা দিয়ে মানববন্ধন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চুন্নু খানের নেতৃত্বে  সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আটপাড়া উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  হয়।

মানববন্ধনে ইবাদ হোসেনের ছবি সংবলিত ব্যানারে তাকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে যে জায়গা নিয়ে বিরোধ, সেই জায়গার মালিকানা দাবিদার শাহীন সুলতানা সুমি মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন না।

মানববন্ধনে চুন্নু খান অভিযোগ করেন, সাংবাদিক ইবাদ হোসেন জোরপূর্বক তার চাচাতো বোন শাহীন সুলতানা সুমির জায়গা দখল করে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা করে জায়গাটিতে নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হত্যার হুমকির অডিও রেকর্ডটি ইবাদ হোসেন তাকে প্ররোচিত করে তৈরি করেছেন বলেও দাবি করেন চুন্নু খান। তার অভিযোগ, ইবাদ হোসেন তার ছোট ভাইয়ের সামরিক চাকরির ক্ষমতা দেখিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

তবে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জায়গাটিতে এলজিইডির ইটের সলিং করা একটি রাস্তা রয়েছে।  সেখানে সাংবাদিক ইবাদ হোসেনের ব্যক্তিগত কোনো দখলও দেখা যায়নি।

এ ছাড়া আদালতে করা অভিযোগের বাদীও ইবাদ হোসেন নন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মজিবুর রহমান জায়গাটি নিয়ে আদালতে অভিযোগ করেন। পরে আদালত সেখানে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

সাংবাদিক ইবাদ হোসেন বলেন, ‘রাস্তা নিয়ে আমি কোথাও অভিযোগ করিনি। অন্য ১০টি পরিবারের মতো আমিও ওই রাস্তার একজন পথচারী। চুন্নু খান আমাকে মোবাইল ফোনে ও সামনাসামনি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। যেকোনো মূল্যে আমার ছোট ভাইয়ের চাকরি খেয়ে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আমি আটপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে মিথ্যা দাবি করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় ও মানহানি করতেই এ মানববন্ধন করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটপাড়া পোস্ট অফিস রোডসংলগ্ন ওই এলাকায় ৮-১০টি পরিবার প্রায় ১৫ বছর ধরে জায়গাটি চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। পরে ২০১৯ সালে স্থানীয় পরিবারগুলো রাস্তার জন্য এক শতাংশ জমি ক্রয় করে। প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডি সেখানে ইটের সলিং নির্মাণ করে।

এরপর শাহীন সুলতানা সুমি নিজের জায়গাসহ রাস্তাটি নিজের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হলে আদালত ওই জায়গায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এদিকে, সাংবাদিক ইবাদ হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।