Dhaka ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক ব্যাবসায়ীকে আটকের দাবি জনতার, অস্বীকার পুলিশের, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

প্রকাশের সময় 20/06/2026

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার চেংজানা গ্রামে চিহ্নিত এক মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে, তাদের হেফাজতে কাউকে আটক করা হয়নি; আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল মাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেংজানা গ্রামের কাজল নামে এক যুবক এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করেন। এর জেরে চিহ্নিত মাদক কারবারি আজিজুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আজিজুল ইসলাম, তার স্ত্রী সালেহা খাতুন এবং ছেলে আসাদুলকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের কেন্দুয়া থানার এসআই ফজলু মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরে পুলিশ আহতদের কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তার ছেলে আসাদুল এক্স-রে করানোর কথা বলে হাসপাতাল থেকে চলে যায় বলে জানা গেছে। অপরদিকে সালেহা খাতুন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
তবে জনতার হাতে আটক হওয়ার পরও অভিযুক্তরা পুলিশি হেফাজতে না থাকায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসার অজুহাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্রামবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলায় আজিজুল ইসলাম আসামি এবং ওই মামলায় তিনি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, “মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় কাজল নামে একজনকে মারধর করা হয়। এতে গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্তদের আটক করে। পরে আমরা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিই।”
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “মাদকের ভয়াল থাবায় চেংজানাসহ পুরো এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। আজিজুল ইসলাম একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে ধরে পুলিশের হাতে দেওয়া হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।”
কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, এসআই ফজলু মিয়াসহ পুলিশ সদস্যরা রাত ৯টার দিকে তিনজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আজিজুল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। আসাদুলকে এক্স-রে করার জন্য পাঠানো হলেও সে আর ফিরে আসেনি। সালেহা খাতুন চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, “পুলিশের হেফাজতে কাউকে আনা হয়নি। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তারা চলে গেছে। তবে তারা এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। শনিবার ঘটনাস্থল ও কেন্দুয়া থানা পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”
নেত্রকোণার পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

Popular Post

নেত্রকোনায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, উপদাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত

মাদক ব্যাবসায়ীকে আটকের দাবি জনতার, অস্বীকার পুলিশের, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

Update Time : ০৪:২৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

প্রকাশের সময় 20/06/2026

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার চেংজানা গ্রামে চিহ্নিত এক মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে, তাদের হেফাজতে কাউকে আটক করা হয়নি; আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল মাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেংজানা গ্রামের কাজল নামে এক যুবক এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করেন। এর জেরে চিহ্নিত মাদক কারবারি আজিজুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আজিজুল ইসলাম, তার স্ত্রী সালেহা খাতুন এবং ছেলে আসাদুলকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের কেন্দুয়া থানার এসআই ফজলু মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরে পুলিশ আহতদের কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তার ছেলে আসাদুল এক্স-রে করানোর কথা বলে হাসপাতাল থেকে চলে যায় বলে জানা গেছে। অপরদিকে সালেহা খাতুন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
তবে জনতার হাতে আটক হওয়ার পরও অভিযুক্তরা পুলিশি হেফাজতে না থাকায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসার অজুহাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্রামবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলায় আজিজুল ইসলাম আসামি এবং ওই মামলায় তিনি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, “মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় কাজল নামে একজনকে মারধর করা হয়। এতে গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্তদের আটক করে। পরে আমরা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিই।”
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “মাদকের ভয়াল থাবায় চেংজানাসহ পুরো এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। আজিজুল ইসলাম একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে ধরে পুলিশের হাতে দেওয়া হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।”
কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, এসআই ফজলু মিয়াসহ পুলিশ সদস্যরা রাত ৯টার দিকে তিনজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আজিজুল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। আসাদুলকে এক্স-রে করার জন্য পাঠানো হলেও সে আর ফিরে আসেনি। সালেহা খাতুন চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, “পুলিশের হেফাজতে কাউকে আনা হয়নি। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তারা চলে গেছে। তবে তারা এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। শনিবার ঘটনাস্থল ও কেন্দুয়া থানা পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”
নেত্রকোণার পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।