Dhaka ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পূর্বধলায় নদী থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটনঃ ধর্ষক গ্রেফতার

প্রকাশের সময় 07/07/2026

নেত্রকোণার পূর্বধলায় কালিহর নদী থেকে ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক নবজাতকের লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন আজ মঙ্গলবার বিকালে নেত্রকোনায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকদের কাছে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ২৯ জুন সকাল সোয়া ১১টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা এলাকায় কালিহর নদীতে একটি নবজাতকের লাশ ভাসতে দেখে থানা  পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ইটের সাথে বাঁধা এবং কালো শার্টে মোড়ানো এক নবজাতক কন্যা শিশুর লাশ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় পূর্বধলা থানার এস আই  মোঃ ফারুক খান বাদী হয়ে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকারের নির্দেশনায় তদন্তে নামে পূর্বধলা থানা-পুলিশ। তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সন্ধীগ্ধ সাজন মিয়াকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সাজন মিয়া পূর্বধলা উপজেলার কোনা কালিহর (মাইজপাড়া) গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। পেশায় সে একজন কৃষক।
সাজন মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ঘটনার মূল রহস্য। সাজন মিয়া তারই
প্রতিবেশী ১২ বছরের এক শিশু কণ্যাকে ধর্ষণ করলে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে।
সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে ও ধর্ষকের অব্যাহত প্রাণনাশের  হুমকিতে হতদরিদ্র ভিকটিম পরিবারটি বিষয়টি যাতে আশেপাশে লোকজন জানতে না পারে তা গোপন রাখার চেষ্টা করে।
পরে ধর্ষিতার গর্ভে মৃত কন্যা সন্তান প্রসব হওয়া সাজন মিয়ার কথা মতো ওই নবজাতকের লাশ কালো শার্টে প্যাচিয়ে শরীরে ইট বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

Popular Post

কেন্দুয়ায় ১২ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজন আটক

পূর্বধলায় নদী থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটনঃ ধর্ষক গ্রেফতার

Update Time : ১১:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

প্রকাশের সময় 07/07/2026

নেত্রকোণার পূর্বধলায় কালিহর নদী থেকে ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক নবজাতকের লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন আজ মঙ্গলবার বিকালে নেত্রকোনায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকদের কাছে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ২৯ জুন সকাল সোয়া ১১টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা এলাকায় কালিহর নদীতে একটি নবজাতকের লাশ ভাসতে দেখে থানা  পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ইটের সাথে বাঁধা এবং কালো শার্টে মোড়ানো এক নবজাতক কন্যা শিশুর লাশ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় পূর্বধলা থানার এস আই  মোঃ ফারুক খান বাদী হয়ে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকারের নির্দেশনায় তদন্তে নামে পূর্বধলা থানা-পুলিশ। তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সন্ধীগ্ধ সাজন মিয়াকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সাজন মিয়া পূর্বধলা উপজেলার কোনা কালিহর (মাইজপাড়া) গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। পেশায় সে একজন কৃষক।
সাজন মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ঘটনার মূল রহস্য। সাজন মিয়া তারই
প্রতিবেশী ১২ বছরের এক শিশু কণ্যাকে ধর্ষণ করলে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে।
সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে ও ধর্ষকের অব্যাহত প্রাণনাশের  হুমকিতে হতদরিদ্র ভিকটিম পরিবারটি বিষয়টি যাতে আশেপাশে লোকজন জানতে না পারে তা গোপন রাখার চেষ্টা করে।
পরে ধর্ষিতার গর্ভে মৃত কন্যা সন্তান প্রসব হওয়া সাজন মিয়ার কথা মতো ওই নবজাতকের লাশ কালো শার্টে প্যাচিয়ে শরীরে ইট বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।