Dhaka ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানুষের হৃদয়ে যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবে আব্দুল মজিদ তালুকদারের সৃষ্টিকর্ম— ড. হিলালী এমপি

প্রকাশের সময় 04/07/2026

নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এমপি বলেছেন, মানুষের হৃদয়ে যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবে সাধক বাউল কবি আব্দুল মজিদ তালুকদারের সৃষ্টিকর্ম। তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার, কবি ও লোকসংগীতের প্রবাদপ্রতিম সাধক। তাঁর সৃষ্টি বাংলা লোকসংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ।
শুক্রবার বিকালে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের উদ্যোগে সাধক বাউল কবি আব্দুল মজিদ তালুকদারের ৩৮তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হিলালী এমপি বলেন, পল্লী জনপদ থেকে উঠে এসে আব্দুল মজিদ তালুকদার তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে অল ইন্ডিয়া রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন। তিনি ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে গান পরিবেশন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশপ্রেম ও মানুষের চেতনা জাগ্রত করতে অসংখ্য গান রচনা ও পরিবেশন করেন। নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনচিত্র তিনি তাঁর গান ও সুরের মাধ্যমে দেশব্যাপী পরিচিত করে তুলেছেন। কেন্দুয়া ও নেত্রকোণার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আব্দুল মজিদ তালুকদারের জীবন, কর্ম ও সৃষ্টিকে পৌঁছে দিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের আহ্বায়ক সেকুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লোকসাহিত্য গবেষক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা।
সহ-আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী এবং প্রয়াত সাধক বাউল কবি আব্দুল মজিদ তালুকদারের পুত্র আবুল বাসার তালুকদার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম। সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মা। আলোচনা সভা শেষে আব্দুল মজিদ তালুকদার শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যপ্রেমী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, লোকসংগীতের প্রবাদপ্রতিম সাধক, গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী আব্দুল মজিদ তালুকদার ১৮৯৮ সালের ৫ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ইটাউতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪২ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। দীর্ঘ সংগীতসাধনার পর ১৯৮৮ সালের ২৯ জুন ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণের পরও তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও সমানভাবে সমাদৃত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর গান পরিবেশিত হয় এবং তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে মানুষের জীবনবোধ, সমাজচেতনা, দেশপ্রেম ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির অনন্য প্রকাশ ঘটেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

Popular Post

কেন্দুয়ায় ১২ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজন আটক

মানুষের হৃদয়ে যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবে আব্দুল মজিদ তালুকদারের সৃষ্টিকর্ম— ড. হিলালী এমপি

Update Time : ১২:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

প্রকাশের সময় 04/07/2026

নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এমপি বলেছেন, মানুষের হৃদয়ে যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবে সাধক বাউল কবি আব্দুল মজিদ তালুকদারের সৃষ্টিকর্ম। তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার, কবি ও লোকসংগীতের প্রবাদপ্রতিম সাধক। তাঁর সৃষ্টি বাংলা লোকসংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ।
শুক্রবার বিকালে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের উদ্যোগে সাধক বাউল কবি আব্দুল মজিদ তালুকদারের ৩৮তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হিলালী এমপি বলেন, পল্লী জনপদ থেকে উঠে এসে আব্দুল মজিদ তালুকদার তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে অল ইন্ডিয়া রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন। তিনি ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে গান পরিবেশন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশপ্রেম ও মানুষের চেতনা জাগ্রত করতে অসংখ্য গান রচনা ও পরিবেশন করেন। নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনচিত্র তিনি তাঁর গান ও সুরের মাধ্যমে দেশব্যাপী পরিচিত করে তুলেছেন। কেন্দুয়া ও নেত্রকোণার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আব্দুল মজিদ তালুকদারের জীবন, কর্ম ও সৃষ্টিকে পৌঁছে দিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের আহ্বায়ক সেকুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লোকসাহিত্য গবেষক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা।
সহ-আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী এবং প্রয়াত সাধক বাউল কবি আব্দুল মজিদ তালুকদারের পুত্র আবুল বাসার তালুকদার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম। সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মা। আলোচনা সভা শেষে আব্দুল মজিদ তালুকদার শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যপ্রেমী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, লোকসংগীতের প্রবাদপ্রতিম সাধক, গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী আব্দুল মজিদ তালুকদার ১৮৯৮ সালের ৫ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ইটাউতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪২ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। দীর্ঘ সংগীতসাধনার পর ১৯৮৮ সালের ২৯ জুন ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণের পরও তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও সমানভাবে সমাদৃত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর গান পরিবেশিত হয় এবং তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে মানুষের জীবনবোধ, সমাজচেতনা, দেশপ্রেম ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির অনন্য প্রকাশ ঘটেছে।