Dhaka ১২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহনগঞ্জে প্রতিবেশীর ঘরের বিছানা থেকে শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের সময় 31/03/2026

প্রতিবেশীর ঘরের বিছানা থেকে তিন বছর বয়সী অংকিত বর্মন নামের এক ছেলে শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামে।
নিহত অংকিত বর্মন বরান্তর গ্রামের সাগর বর্মনের ছেলে।
মৃতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অংকিতের বাবা সাগর বর্মন স্বপরিবারে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত।
শিশুটির দিদিমা বিশু রানী বর্মনও তাদের সাথেই ঢাকায় থাকেন এবং নাতনিকে দেখাশোনা করেন।
ঈদের ছুটিতে কয়েক দিন আগে  দিদিমার সাথে ঢাকা থেকে তারা গ্রামের বাড়ি বেড়াতে আসে।
সোমবার বিকালে বাড়ির উঠানে খেলা করছিলো শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা তখন কাজের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন এবং দিদিমাও পাশের একটি বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে নাতিনকে উঠানে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজা খুজি শুরু করেন তিনি। খোজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশেই তার বাবার মামাতো ভাই সুকুমার বর্মনের ঘরের বিছানায় অংকিতের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরান্তর বাজারে এবং পরে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।  জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক অংকিতকে মৃত ঘোষণা করে। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত অংকিতের কাকা সোহাগ বর্মন বলেন, ‘আমরা এই ঘটনায় স্তম্ভিত। আমরা বাড়ির পাশেই কাজ করছিলাম। মা (অংকিতের দিদিমা) অংকিতকে রেখে একটু পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে সুকুমার বর্মনের ঘরে ওর গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। আমরা এই নৃশংস ঘটনার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক বিচার চাই।’
মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাফিজুল ইসলাম হারুন এর সাথে সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের খুজে আইনের আওতায় আনা হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

কেন্দুয়ায় দুর্বৃত্তের আগুনে বাক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর পুড়ে ছাই

মোহনগঞ্জে প্রতিবেশীর ঘরের বিছানা থেকে শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ০৩:২৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

প্রকাশের সময় 31/03/2026

প্রতিবেশীর ঘরের বিছানা থেকে তিন বছর বয়সী অংকিত বর্মন নামের এক ছেলে শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামে।
নিহত অংকিত বর্মন বরান্তর গ্রামের সাগর বর্মনের ছেলে।
মৃতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অংকিতের বাবা সাগর বর্মন স্বপরিবারে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত।
শিশুটির দিদিমা বিশু রানী বর্মনও তাদের সাথেই ঢাকায় থাকেন এবং নাতনিকে দেখাশোনা করেন।
ঈদের ছুটিতে কয়েক দিন আগে  দিদিমার সাথে ঢাকা থেকে তারা গ্রামের বাড়ি বেড়াতে আসে।
সোমবার বিকালে বাড়ির উঠানে খেলা করছিলো শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা তখন কাজের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন এবং দিদিমাও পাশের একটি বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে নাতিনকে উঠানে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজা খুজি শুরু করেন তিনি। খোজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশেই তার বাবার মামাতো ভাই সুকুমার বর্মনের ঘরের বিছানায় অংকিতের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরান্তর বাজারে এবং পরে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।  জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক অংকিতকে মৃত ঘোষণা করে। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত অংকিতের কাকা সোহাগ বর্মন বলেন, ‘আমরা এই ঘটনায় স্তম্ভিত। আমরা বাড়ির পাশেই কাজ করছিলাম। মা (অংকিতের দিদিমা) অংকিতকে রেখে একটু পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে সুকুমার বর্মনের ঘরে ওর গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। আমরা এই নৃশংস ঘটনার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক বিচার চাই।’
মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাফিজুল ইসলাম হারুন এর সাথে সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের খুজে আইনের আওতায় আনা হবে।