Dhaka ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় উদ্ধারকৃত গন্ধগোকুল বনে অবমুক্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৩৮৮ Time View

প্রকাশের সময় 04/02/2025

 

(নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ সোহেল মিয়া)

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরশহরের মামুনুল কবীর খান নামে এক ব্যক্তির বাসার সিলিংয়ের ওপর থেকে বিলুপ্ত প্রজাতির একটি গন্ধগোকুল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই বাসা থেকে ৩ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং প্রায় ৪ কেজি ওজনের এ প্রাণিটি উদ্ধার করা হয়।

 

পরে বাসার মালিক স্থানীয় বনবিভাগের লোকজনকে সংবাদ দিলে তারা এটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিকেলে উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের মনকান্দা গ্রামের বনে অবমুক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে মামুনুল কবীর খানের বাসার সিলিংয়ের ওপর গন্ধগোকুলটির চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পেয়ে বাসায় থাকা শিশুরা ভয় পায়। পরে মামুনুল কবীর খান স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সিলিংয়ের ওপর থেকে গন্ধগোকুলটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ সময় বনবিভাগের লোকজনকে খবর দিলে উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাদিউল ইসলাম ও বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাদের কাছে প্রাণিটি হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা স্থানীয়ভাবে প্রাণিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বনে অবমুক্ত করেন।

 

মামুনুল কবীর খান বলেন, বাসার সিলিংয়ের ওপর গত রাতে হঠাৎ প্রাণিটির শব্দ শুনতে পাই। পরে মঙ্গলবার দুপুরেও একই শব্দ শুনে আমার ছেলেরা প্রাণিটি দেখে ভয় পেয়ে যায়। তারপর স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় এটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে উদ্ধার করি। এতে প্রাণিটি কিছুটা আহত হয়। পরে এটিকে বনবিভাগের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করি।

 

উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাদিউল ইসলাম বলেন, এক সময় ব্যাপক বিচরণ থাকলেও বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। আমরা বিলুপ্ত প্রায় এই প্রাণিটিকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছি।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংস্থা (বিসিএসএসসি) নির্বাহী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্য সংকটের কারণে বিলুপ্ত প্রায় এসব প্রাণি। তাই আমাদেরকে বন ও বন্যপ্রাণি রক্ষায় আরো সচেতন হওয়াটা জরুরি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

Popular Post

নেত্রকোনার প্রধান নদীগুলির সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শীর্ষক কর্মশালা

নেত্রকোনায় উদ্ধারকৃত গন্ধগোকুল বনে অবমুক্ত

Update Time : ০৯:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

প্রকাশের সময় 04/02/2025

 

(নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ সোহেল মিয়া)

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরশহরের মামুনুল কবীর খান নামে এক ব্যক্তির বাসার সিলিংয়ের ওপর থেকে বিলুপ্ত প্রজাতির একটি গন্ধগোকুল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই বাসা থেকে ৩ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং প্রায় ৪ কেজি ওজনের এ প্রাণিটি উদ্ধার করা হয়।

 

পরে বাসার মালিক স্থানীয় বনবিভাগের লোকজনকে সংবাদ দিলে তারা এটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিকেলে উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের মনকান্দা গ্রামের বনে অবমুক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে মামুনুল কবীর খানের বাসার সিলিংয়ের ওপর গন্ধগোকুলটির চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পেয়ে বাসায় থাকা শিশুরা ভয় পায়। পরে মামুনুল কবীর খান স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সিলিংয়ের ওপর থেকে গন্ধগোকুলটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ সময় বনবিভাগের লোকজনকে খবর দিলে উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাদিউল ইসলাম ও বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাদের কাছে প্রাণিটি হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা স্থানীয়ভাবে প্রাণিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বনে অবমুক্ত করেন।

 

মামুনুল কবীর খান বলেন, বাসার সিলিংয়ের ওপর গত রাতে হঠাৎ প্রাণিটির শব্দ শুনতে পাই। পরে মঙ্গলবার দুপুরেও একই শব্দ শুনে আমার ছেলেরা প্রাণিটি দেখে ভয় পেয়ে যায়। তারপর স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় এটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে উদ্ধার করি। এতে প্রাণিটি কিছুটা আহত হয়। পরে এটিকে বনবিভাগের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করি।

 

উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাদিউল ইসলাম বলেন, এক সময় ব্যাপক বিচরণ থাকলেও বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। আমরা বিলুপ্ত প্রায় এই প্রাণিটিকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছি।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংস্থা (বিসিএসএসসি) নির্বাহী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্য সংকটের কারণে বিলুপ্ত প্রায় এসব প্রাণি। তাই আমাদেরকে বন ও বন্যপ্রাণি রক্ষায় আরো সচেতন হওয়াটা জরুরি।