Dhaka ১২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় দুর্বৃত্তের আগুনে বাক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর পুড়ে ছাই

প্রকাশের সময় 11/06/2026

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দুর্বৃত্তের আগুনে বাক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর পুড়ে ছাই। এঘটনাটি বুধবার গভীর রাতে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের বলাইশিমূল ছকপাড়া গ্রামে ঘটে।

ভুক্তভোগী বাক প্রতিবন্ধী হুসনা আক্তার মৃত এখলাছ মিয়া স্ত্রী ও রফিক মিয়ার বোন। এতে নগদ টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ১৪ মে ধান শুকানোকে কেন্দ্র করে নিহত আব্দুর রহিম ও জসিমউদদীন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রহিম উদ্দিন ১৬ মে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে আসাদুজ্জামান পিন্টু বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপরে মারামারি ঘটনায় জসিম উদ্দিনের পক্ষে নিহতের ছেলে সোহেল মিয়া গংদের ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এসব মামলায় দুই পক্ষে লোকজন পলাতক রয়েছেন।
হুসনা আক্তার জসিম উদ্দিনের পক্ষে শহীদুলের বোন। মামলা দায়েরের পর থেকে বাড়িতে কেউ থাকতেন না। বুধবার পরিবারের নারী সদস্যরা বাড়িতে গেলে রাতে এই অগ্নীকান্ডের ঘটনা ঘটে। বাক প্রতিবন্ধী হুসনা আক্তার মূখে কিছু বলতে না পারলেও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ইশারায় তার অফুরন্ত ক্ষতি বিষয়টি বুঝানো চেষ্টা করেন।

রফিক মিয়ার স্ত্রী হালিমা আক্তার বলেন, ঘটনার পর থেকে আমারা বাড়ি ছাড়া। গতকাল (বুধবার) বাড়িতে আসলে নিহত রহিম উদ্দিনের ছেলে সোহাগ আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। আমরা সবাই আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। এরপরই গভীর রাতে ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমদের ডাক চিৎকারে ভয়ে কেউ আসেনি। তিনি আরও বলেন সোহাগের নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগের সোহেল মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ওদের দায়ের করা মামলার ভয়ে আমরা বাড়িতেই থাকি না। তাই আগুন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

ওসি মেহেদী মাকসুদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

কেন্দুয়ায় দুর্বৃত্তের আগুনে বাক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর পুড়ে ছাই

কেন্দুয়ায় দুর্বৃত্তের আগুনে বাক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর পুড়ে ছাই

Update Time : ০৯:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

প্রকাশের সময় 11/06/2026

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দুর্বৃত্তের আগুনে বাক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর পুড়ে ছাই। এঘটনাটি বুধবার গভীর রাতে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের বলাইশিমূল ছকপাড়া গ্রামে ঘটে।

ভুক্তভোগী বাক প্রতিবন্ধী হুসনা আক্তার মৃত এখলাছ মিয়া স্ত্রী ও রফিক মিয়ার বোন। এতে নগদ টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ১৪ মে ধান শুকানোকে কেন্দ্র করে নিহত আব্দুর রহিম ও জসিমউদদীন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রহিম উদ্দিন ১৬ মে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে আসাদুজ্জামান পিন্টু বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপরে মারামারি ঘটনায় জসিম উদ্দিনের পক্ষে নিহতের ছেলে সোহেল মিয়া গংদের ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এসব মামলায় দুই পক্ষে লোকজন পলাতক রয়েছেন।
হুসনা আক্তার জসিম উদ্দিনের পক্ষে শহীদুলের বোন। মামলা দায়েরের পর থেকে বাড়িতে কেউ থাকতেন না। বুধবার পরিবারের নারী সদস্যরা বাড়িতে গেলে রাতে এই অগ্নীকান্ডের ঘটনা ঘটে। বাক প্রতিবন্ধী হুসনা আক্তার মূখে কিছু বলতে না পারলেও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ইশারায় তার অফুরন্ত ক্ষতি বিষয়টি বুঝানো চেষ্টা করেন।

রফিক মিয়ার স্ত্রী হালিমা আক্তার বলেন, ঘটনার পর থেকে আমারা বাড়ি ছাড়া। গতকাল (বুধবার) বাড়িতে আসলে নিহত রহিম উদ্দিনের ছেলে সোহাগ আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। আমরা সবাই আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। এরপরই গভীর রাতে ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমদের ডাক চিৎকারে ভয়ে কেউ আসেনি। তিনি আরও বলেন সোহাগের নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগের সোহেল মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ওদের দায়ের করা মামলার ভয়ে আমরা বাড়িতেই থাকি না। তাই আগুন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

ওসি মেহেদী মাকসুদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।