Dhaka ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে এমপি হিলালীর অনুদান

প্রকাশের সময় 13/06/2026

“সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত নেত্রকোণার কেন্দুয়া ইতিহাস, ঐতিহ্য আর লোকসংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ জনপদ। যে জনপদের ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় লেখা রয়েছে গুণীজনের অবদানের কথা।

সেই কেন্দুয়াতেই শুরু হলো নতুন এক সাংস্কৃতিক যাত্রা।

‘সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের সন্ধ্যানে আমরা মিশি প্রাণে প্রাণে’এই স্লোগানকে ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করল ‘কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসর’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।

 শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আসরটির শুভ উদ্বোধন করেন নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, লোকজ সাহিত্য আসরের যাত্রা নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে। এ কার্যক্রমে আমার সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কেন্দুয়া অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী মানুষের জন্মভূমি।

এ এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। ভারতবর্ষের অর্থমন্ত্রী নলিনী রঞ্জন সরকার, পাকিস্তান সরকারের অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী হাফিজুর রহমান, সাবেক প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, লোকজ ঐতিহ্য সংগ্রাহক চন্দ্র কুমার দে, নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ, পল্লী কবি রওশন ইজদানি, মরমি বাউল সাধক জালাল খাঁ, আব্দুল মজিদ তালুকদারসহ অসংখ্য গুণীজনের অবদানে কেন্দুয়া সমৃদ্ধ। তাঁদের স্মৃতি ও অবদান আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের কাছে কেন্দুয়ার এই গৌরব ও ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে হবে। এসময় সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি সেকুল ইসলাম খান সংগঠনের কার্যক্রম, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশের পরিকল্পনা এবং সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তাসহ সহযোগিতা কামনা করেন।

সঞ্চালনা করেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম ও সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূইয়া মজনু এবং লোকশিল্প কুদ্দুস বয়াতি।প্রধান আলোচক ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও গবেষক নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী।

এছাড়া বক্তব্য দেন কবি তানভীর জাহান চৌধুরী, নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল,

সাংবাদিক ও লেখক রাখাল বিশ্বাস, বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী দিল বাহার খানসহ সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আলোচকেরা বলেন, লোকজ সাহিত্য আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতি। এই শেকড়ের চর্চা ও সংরক্ষণ না হলে আমাদের ঐতিহ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। ‘কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসর’ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা তরুণ প্রজন্মকে লোকঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এজন্যে

প্রধান অতিথির কাছে কেন্দুয়ায় একটি আধুনিক শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান তারা।

অনুষ্ঠানে সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে সহায়তার জন্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী দুই লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জনপ্রিয় বাউল শিল্পী সালাম সরকারের জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষণাও দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কেন্দুয়া উপজেলার প্রয়াত গুণীজনদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয় এবং তাঁদের হাতে হুমায়ুন আহমেদের রচিত বই উপহার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দুয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক ভূইয়া, নাট্য অভিনেতা জহিরুল ইসলাম ভূইয়া স্বপন, সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বাঙালী, সায়মা শাহজাহান একাডেমির প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, কেন্দুয়া সিনিয়র সদস্য আশরাফ উদ্দিন ভূইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী চৌধুরী কাজল, এম আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোসলেম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার, সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন আহমেদ খোকন, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া দুলাল, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ রাছেল এবং প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ভূইয়া কাজলসহ অসংখ্য সাহিত্যপ্রেমী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজনদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

আলোচনা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠান রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক উৎসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

md rezaul hasan

কেন্দুয়ায় সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে এমপি হিলালীর অনুদান

কেন্দুয়ায় সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে এমপি হিলালীর অনুদান

Update Time : ০১:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

প্রকাশের সময় 13/06/2026

“সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত নেত্রকোণার কেন্দুয়া ইতিহাস, ঐতিহ্য আর লোকসংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ জনপদ। যে জনপদের ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় লেখা রয়েছে গুণীজনের অবদানের কথা।

সেই কেন্দুয়াতেই শুরু হলো নতুন এক সাংস্কৃতিক যাত্রা।

‘সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের সন্ধ্যানে আমরা মিশি প্রাণে প্রাণে’এই স্লোগানকে ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করল ‘কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসর’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।

 শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আসরটির শুভ উদ্বোধন করেন নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, লোকজ সাহিত্য আসরের যাত্রা নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে। এ কার্যক্রমে আমার সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কেন্দুয়া অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী মানুষের জন্মভূমি।

এ এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। ভারতবর্ষের অর্থমন্ত্রী নলিনী রঞ্জন সরকার, পাকিস্তান সরকারের অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী হাফিজুর রহমান, সাবেক প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, লোকজ ঐতিহ্য সংগ্রাহক চন্দ্র কুমার দে, নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ, পল্লী কবি রওশন ইজদানি, মরমি বাউল সাধক জালাল খাঁ, আব্দুল মজিদ তালুকদারসহ অসংখ্য গুণীজনের অবদানে কেন্দুয়া সমৃদ্ধ। তাঁদের স্মৃতি ও অবদান আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের কাছে কেন্দুয়ার এই গৌরব ও ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতে হবে। এসময় সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি সেকুল ইসলাম খান সংগঠনের কার্যক্রম, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশের পরিকল্পনা এবং সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তাসহ সহযোগিতা কামনা করেন।

সঞ্চালনা করেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম ও সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূইয়া মজনু এবং লোকশিল্প কুদ্দুস বয়াতি।প্রধান আলোচক ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও গবেষক নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী।

এছাড়া বক্তব্য দেন কবি তানভীর জাহান চৌধুরী, নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল,

সাংবাদিক ও লেখক রাখাল বিশ্বাস, বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী দিল বাহার খানসহ সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আলোচকেরা বলেন, লোকজ সাহিত্য আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতি। এই শেকড়ের চর্চা ও সংরক্ষণ না হলে আমাদের ঐতিহ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। ‘কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসর’ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা তরুণ প্রজন্মকে লোকঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এজন্যে

প্রধান অতিথির কাছে কেন্দুয়ায় একটি আধুনিক শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান তারা।

অনুষ্ঠানে সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে সহায়তার জন্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী দুই লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জনপ্রিয় বাউল শিল্পী সালাম সরকারের জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষণাও দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কেন্দুয়া উপজেলার প্রয়াত গুণীজনদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয় এবং তাঁদের হাতে হুমায়ুন আহমেদের রচিত বই উপহার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দুয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক ভূইয়া, নাট্য অভিনেতা জহিরুল ইসলাম ভূইয়া স্বপন, সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বাঙালী, সায়মা শাহজাহান একাডেমির প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, কেন্দুয়া সিনিয়র সদস্য আশরাফ উদ্দিন ভূইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী চৌধুরী কাজল, এম আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোসলেম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার, সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন আহমেদ খোকন, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া দুলাল, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ রাছেল এবং প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ভূইয়া কাজলসহ অসংখ্য সাহিত্যপ্রেমী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজনদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

আলোচনা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠান রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক উৎসবে।